ডাক ভবন দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে

ডাক ভবন দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: লেটার বক্সের আদলে তৈরি ডাক ভবনের যাত্রা শুরু হলো। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্মিত এ ভবনটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার প্রধান অতিথি হিসেবে গণভবন থেকে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে উদ্বোধন করেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ডাক ভবনে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘নবনির্মিত ডাক ভবন শুধু উত্তম কর্মপরিবেশ তৈরি করবে না, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টির মাধ্যমে দাফতরিক কার্যক্রম গতিশীল করবে।’ তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি এমন একটি স্থাপনা উদ্বোধন করছেন যা কেবল একটি কর্মস্থল হিসেবেই বিবেচিত হবে না, একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত হবে। নির্মাণের পর থেকে আমরা দেখেছি এই পথ দিয়ে যারা আসা যাওয়া করেন তাদের কাছে একটি আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি মহামারিকাল অতিক্রম করছি। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশের জনগণ প্রচণ্ড চ্যালেঞ্জের মধ্যে জীবনযাপন করছে। এর মধ্যেই সরকার পরিচালনা থেকে শুরু করে জীবন ধারণের প্রতিটি ক্ষেত্রে অতি প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’ তিনি জানান, আজকের বাংলাদেশের ৯৮ ভাগ ভূখণ্ড টেলিকম নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে। এ বছরের শেষ নাগাদ দেশে একটি ইউনিয়নও থাকবে না, যেখানে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি পৌঁছাবে না।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর সময় দেখা গেছে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজনের জায়গা ডিজিটাল কানেক্টিভিটি। ডিজিটাল কানেক্টিভিটি থাকায় জরুরি সেবাগুলো সচল রাখা সম্ভব হয়েছে।’

এছাড়া ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, ৯১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ডাক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ২টি বেজমেন্টসহ ১৪ তলা ভবন নির্মাণের জন্য ‘বাংলাদেশ ডাক অধিদফতরের সদরদফতর’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ২০ মার্চ একনেকে অনুমোদিত হয়। নবনির্মিত ডাক ভবনে সুসজ্জিত ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, আধুনিক পোস্টাল মিউজিয়াম, সুপরিসর অডিটরিয়াম, ক্যাফেটেরিয়া, ডে-কেয়ার সেন্টার, মেডিক্যাল সুবিধা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং সার্বক্ষণিক ওয়াইফাইসহ অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তিগত সুবিধা রাখা হয়েছে।